আঙ্গুর ফল এর উপকারীতা/ আঙ্গুর ফল চাষ পদ্ধতি

আঙ্গুর হলো এক ধরণের ফল। আঙুরকে শুকিয়ে কিসমিস তৈরি করা হয়। বন্য আঙুরলতা অনেক ক্ষেত্রে পরগাছা হিসাবে অন্য গাছকে গ্রাস করে ফেলে।স্বল্প পরিসরে আঙ্গুর চাষের জন্য বাড়তি জায়গার প্রয়োজন হয় না। বসতবাড়ীর আঙ্গিনায় যে স্থানে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত রোদ থাকে অথচ পানি দাঁড়ায় না এমন জায়গা নির্বাচন করে আঙ্গুর চাষ করা যায়।

যদি বাড়ির আশেপাশে বা আঙ্গিনায় জায়গা না থাকে বিশেষ করে শহর অঞ্চলে তারা বাড়ির ছাদে টবে আঙ্গুর চাষ করতে পারেন। আঙ্গুরের পুষ্টিগুণ অনেক। আমাদের দেশে রোগীর পথ্য হিসেবে আঙ্গুর ব্যাপক ব্যবহৃত হয়৷ এতে প্রোটিন, শর্করা, চর্বি, ক্যালসিয়াম, ফরফরাস, লৌহ, খনিজ, পটাশিয়াম, থিয়ামিন, রিবোফ্লাবিন, ভিটামিন-এ, বি, সি উপাদান রয়েছে৷ তাছাড়া প্রতি কেজি আঙ্গুর থেকে প্রায় ৪৫০ ক্যালরি খাদ্যশক্তি পাওয়া যায়। 

বাংলাদেশে আঙ্গুর চাষ 

আঙ্গুর চাষ - Agrobangla | Agriculture Information and Ecommerce

প্রবাদ আছে আঙ্গুর ফল টক। আর এ কথাটি আমাদের জন্য বেশ কার্যকর। এ কারণে এই ফলটি আমরা এতদিন ফলাতে পারিনি। পুরোটাই আমদানী করে খেতে হয়। উচ্চমূল্যের কারণে বরাবরই সাধারণের ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকে। কখনও কেউ অসুস্থ হলে সাধারণ পরিবারে আঙ্গুর খাওয়া হয়। কিন্তু আমদের মাটি ও জলবায়ু আঙ্গুর চাষের জন্য উপযোগী, এটা সমপ্রতি প্রমাণিত হয়েছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দু’চারটি আঙ্গুর গাছ থাকলেও সেটা পরিবারের আওতার মধ্যে সীমাবদ্ধ। প্রতিষ্ঠানিক ভাবে আঙ্গুর চাষের চেষ্টা চালানো হয় ১৯৯০ সালে গাজীপুরের কাশিমপুরস্থ বিএডিসি’র উদ্যান উন্নয়ন কেন্দ্রে। 

আঙ্গুর চাষ পদ্ধতি 

কালো আঙ্গুরের চাষ পদ্ধতি এবং আঙ্গুর গাছের পরিচর্যা | farmsandfarmer24.com

আঙ্গুর চাষের জন্য আমাদের এর চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা দরকার। অনেক নিয়ম-কানুন মেনে আঙ্গুর চাষ করা হয়। নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম না মেনে আঙ্গুর চাষ করা সম্ভব নয়। আসুন নিয়ম গুলো জেনে নেওয়া যাক- 

জমি তৈরি

ভালভাবে চাষ দিয়ে মাটি ঝুরঝুর করবেন তারপর ৭০ × ৭০ × ৭০ সে. মি. মাপের গর্ত করে তাতে ৪০ কেজি গোবর, ৪০০ গ্রাম পটাশ, ৫০০ গ্রাম ফসফেট এবং ১০০ গ্রাম ইউরিয়া গর্তের মাটির সাথে মিশিয়ে ১০/১৫ দিন রেখো দিতে হবে যেন সারগুলো ভালোভাবে মাটির সাথে মিশে যায়। তারপর সংগ্রহীত চারা গোড়ার মাটির বলসহ গর্তে রোপন করে একটি কাঠি গেড়ে সোজা হয়ে ওঠার সুযোগ করে দিতে হবে এবং হালকা পানি সেচ দিতে হবে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আঙ্গুর চারা লাগানোর উপযুক্ত সময় মার্চ-এপ্রিল মাস।

সার প্রয়োগ

আঙ্গুর যেহেতু লতানো গাছ তাই এর বৃদ্ধির জন্য সময়মতো বাড়তি সার প্রয়োগ করতে হবে। রোপনের ১ মাসের মধ্যে বাড়বাড়তি না হলে গোড়ার মাটি আলগা করে তাতে ৫ গ্রাম ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করা দরকার। ১-৩ বছরের প্রতিটি গাছে বছরে ১০ কেজি গোবর, ৪০০ গ্রাম পটাশ, ৫০০ গ্রাম ফসফেট এবং ১০০ গ্রাম ইউরিয়া প্রয়োগ করতে হবে। পটাশ সার ব্যবহারে আঙ্গুর মিষ্টি হয় এবং রোগ বালাইয়ের উপদ্রব কম হয়। গাছ বেড়ে ওঠার জন্য গাছের গোড়ায় শক্ত কাঠি দিতে হবে এবং মাচার ব্যবস্থা করতে হবে- সে মাচাতে আঙ্গুরের শাখা-প্রশাখা ছড়াবে।

গাছের কান্ড ছাটাই

How To Prune Grapes: How To Trim A Grapevine

রোপনের পরবর্তী বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে মাচায় ছড়িয়ে থাকা আঙ্গুর গাছের কান্ড ছাঁটাই করতে হবে। অধিকাংশ খামারিরই প্রশ্ন গাছে ফুল হয় কিন্তু ফল হয় না। এর কারণ কি? কান্ড ছাঁটাই -এর মাধমে আঙ্গুর গাছের ফলন বৃদ্ধি হয় এবং ফুল ঝরে পড়া কমে যায়। ছাঁটাইয়ের ৭ দিন আগে এবং পরে গোড়ায় হালকা সেচ দিতে হয়। গাছ রোপনের পর মাচার ওঠা পর্যন্ত প্রধান কান্ড ছাড়া অন্য সকল পার্শ্বের শাখা ভেঙ্গে ফেলতে হবে।

আঙ্গুর ফল খাওয়ার উপকারীতা 

বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক 'আঙ্গুর'

আঙ্গুর ফল এ অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে। আঙ্গুর খেলে আমাদের শরীরে পুষ্টির চাহিদা পূরণ হয়। এছাড়া ও আঙ্গুর খেলে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। আসুন আঙ্গুর ফল এর উপকারীতা সেম্পর্কে বিস্তারিত জেনে আসি- 

হার্ট ব্লক প্রতিরোধ

আঙ্গুর নিয়মিত খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসে। নিউট্রিশন নামক জার্নালের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয় যে, প্লাটিলেটের সক্রিয়তা কমানোর মাধ্যমে আঙ্গুরের জুস হার্টের ব্লকেজ প্রতিরোধে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখানো হয় যে, এক গ্লাস লাল আঙ্গুরের জুস ধমনীতে প্লাটিলেটের সংখ্যা কমায়।

ক্যান্সার প্রতিরোধ 

আঙ্গুর ক্যানসারের মতো বিপজ্জনক রোগ প্রতিরোধেও সহায়ক। আঙ্গুরে পর্যাপ্ত পরিমাণে উপকারী উপাদান রয়েছে, যেমন – গ্লুকোজ, ম্যাগনেসিয়াম এবং সাইট্রিক অ্যাসিড। আঙ্গুর মূলত টিবি, ক্যানসারের মতো মারণ রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে। স্তন ক্যানসারের ঝুঁকিতে আছেন এমন রোগীরা খেতে পারেন আঙুর। গবেষণায় দেখা গেছে, আঙুরের উপাদানগুলো ক্যানসার সৃষ্টিকারী কোষের বিরুদ্ধে কাজ করতে সক্ষম।

হৃদরোগ প্রতিরোধ 

যারা হৃদরোগে ভুগছেন তাদের জন্য আঙ্গুর খাওয়া খুবই উপকারী। এটি হৃদপিণ্ডকে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখে ও রক্ত চলাচলে সাহায্য করে। একটি গবেষণা অনুযায়ী, এটি স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

চোখের জন্য উপকারী

আঙ্গুরের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ পাওয়া যায়, যা চোখের জন্য খুবই উপকারী। যাদের চোখের সমস্যা রয়েছে তারা নিয়মিত আঙ্গুর খেতে পারেন।

উপসংহার

আঙ্গুর একটি পুষ্টিকর ফল। আঙ্গুর ফল আমাদের সকলেরই নিয়মিত খাওয়া উচিৎ। কারণ এই ফল খেলে আমাদের শরীরে পুষ্টির চাহিদা পূরণ হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এছাড়া ও বিভিন্ন ধরণের রোগের আক্রমন থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। তাই আমাদের সকলেরই এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা অত্যন্ত জরুরি। 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *